প্রচ্ছদ >> ফিচার

আরো ৪ হাজার কোটি টাকার জালিয়াতি

এম এ রহমান: সোনালী ব্যাংকের ৮ শাখায় আরো প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছে দুদক।

অভিযোগ খতিয়ে দেখতে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত সেলের মহা-পরিচালক জিয়াউদ্দিন আহমেদ এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

সোনালী ব্যাংকের যে সব শাখায় এ অভিযোগ পাওয়া গেছে সেগুলো হলো, রাজধানীর আগারগাঁও শাখা, গুলশান শাখা, মতিঝিলের স্থানীয় কার্যালয়, বৈদেশিক বাণিজ্য কর্পোরেট শাখা (মতিঝিল), বঙ্গবন্ধু এভিনিউ কর্পোরেট শাখা, চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ কর্পোরেট শাখা, লালদীঘি কর্পোরেট শাখা এবং নারায়ণগঞ্জ কর্পোরেট শাখা।

দুদক সূত্রে জানা যায়, ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময় এসব শাখায় বৈদেশিক বাণিজ্য, ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি, ডিমান্ড লোন ও ফোর্সড লোন সৃষ্টির মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে বলে দুদকে কাছে অভিযোগ রয়েছে।

দুদক সূত্রে আরও জানা যায়, গত মে মাসে সোনালী ব্যাংক রূপসী বাংলা হোটেল শাখার সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার ঋণ কেলেঙ্কারিসহ বিভিন্ন শাখায় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ দুদকে আসে।

ইতোমধ্যে এ কেলেঙ্কারিতে ৩৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। যার মধ্যে দুদক ১১ টি মামলার চার্জশিট শিগগির দাখিল করতে যাচ্ছে।

অভিযোগ অনুযায়ী- ব্যাংকটির মতিঝিলের স্থানীয় শাখা থেকে অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, কেএনএস ইন্ডাস্ট্রিজ, ক্যাংসান ইন্ডাস্ট্রিজ, থারমেক্স টেক্সটাইল, ইকো কটন মিলস, রহিমা ফুড কর্পোরেশনের মাধ্যমে প্রায় এক হাজার ৬০০ কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে।

একই শাখায় মেসার্স অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের হিসেবে ২০১০ সালে ৩৪ কোটি ও ২০১১ সালে ৯২ কোটি টাকার ডিমান্ড লোন সৃষ্টি করা হয়। মেসার্স এপেক্স উইভিং অ্যান্ড ফিনিশিং মিলসের হিসাবে ২০০৯ সালে ৫৩ কোটি, ২০১০ সালে ১৯ কোটি এবং ২০১২ সালে ৮০ লাখ টাকাসহ তিন বছরে ৭৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকার শ্রেণিকৃত দায় সৃষ্টি হয়।

মেসার্স পদ্মা পলি কটন নিট ফ্যাব্রিক্স ২০০৮ সালে ৩৬ কোটি, ২০১০ সালে ৩৫ কোটি ১৬ লাখ, ২০১১ সালে ২৯৮টি ব্যাক টু ব্যাক এলসির দায়, ২০১২ সালে ৪৫ কোটি ৬৩ লাখ টাকার ডিমান্ড লোন করে পরিশোধের মাধ্যমে ব্যাংকের অর্থ লোপাট করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ওই একই শাখায় মেসার্স কেএসএস নিট কম্পোজিটের হিসাবে ২০০৯ সালে তিন কোটি ৭৫ লাখ, ২০১০ সালে তিন কোটি ৩২ লাখ এবং ২০১২ সালে পাঁচ কোটি ৩৪ লাখ টাকার ফোর্সড লোন সৃষ্টি হয়।

অ্যাকমোডেশন বিল সৃষ্টি করে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহায়তায় তা স্বীকৃত বিলে পরিণত করে ফোর্সড ঋণের মাধ্যমে অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, অলটেক্স ফ্যাব্রিক্স, এপেক্স উইভিং, ফিনিশিং, পদ্মা পলি কটন, কেএসএস নিট এবং পিলুসিড কোম্পানি আরো প্রায় ৬০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

দুদকের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, সোনালী ব্যাংক আগারগাঁও শাখা থেকে গ্রিন প্রিন্টার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান নিয়ম ভেঙে ১৪১ কোটি টাকার আর্থিক সুবিধা নিয়েছে। যার অনুসন্ধানও শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলেও তিনি জানান।

প্রতিষ্ঠানটির অনুকূলে ২০১১ ও ২০১২ সালে তিন শতাধিক ঋণপত্র খুললেও এর কোনো নথি সংরক্ষণ করা হয়নি। প্রকৃতপক্ষে এ ঋণপত্রগুলো ছিল ভুয়া। গুলশান শাখা থেকে রোজবার্গ এবং এলএনএস গ্রুপসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান একইভাবে তুলে নিয়েছে ২৮১ কোটি টাকা।

অন্যদিকে, সোনালী ব্যাংকের বৈদেশিক বাণিজ্য শাখায় তিন কোটি টাকার জালিয়াতির ঘটনায় ছয় কর্মকর্তাকে শনাক্ত করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, শাখা থেকে বেআইনিভাবে দু’টি রপ্তানি বিল কেনা হয়েছে। যেগুলোর বিপরীতে বাস্তবে কোনো পণ্য রপ্তানি বা কোনো গ্রাহক আমদানি করেনি।

বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ করপোরেট শাখা থেকে বিধিবহির্ভূতভাবে ২৫০ কোটি টাকার চারটি ঋণপত্র তৈরি করেও সরকারের আর্থিক ক্ষতি এবং এক কোটি ২৫ লাখ টাকার শ্রেণিকৃত ঋণ সৃষ্টি করা হয়।

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ করপোরেট শাখা থেকে এলটিআর ঋণের সীমা বাড়িয়ে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। এসব ঋণের প্রায় ৩০০ কোটি টাকা অনাদায়ী রয়েছে।

তাছাড়া চট্টগ্রামের লালদীঘি কর্পোরেট শাখা এবং নারায়ণগঞ্জ কর্পোরেট শাখা থেকে অনৈতিকভাবে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ঋণ দেয়া হয়েছে। এ ঋণ আদায়ের সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ বলেও দুদক সূত্রে জানা গেছে।

দুদকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা রাইজিং বিডিকে জানান, এর মধ্যে কয়েকটি শাখার অনিয়ম খতিয়ে দেখতে এরইমধ্যে অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে। আরো বেশ কয়েকটির অনিয়ম খতিয়ে দেখতে খুব শিগগির দুদকের সিনিয়র কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেয়া হবে।

2014-01-15-00-32-47 পৃথিবীর সৃষ্টিলগ্ন থেকে মানুষ ধাপে ধাপে উন্নতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। সভ্যতার পরিবর্তন হচ্ছে মানুষের উন্নতির মাধ্যমে। যে কাজ নিজের কল্যানের তা অন্যেরও কল্যানের। সেজন্য পুরাতন সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটে নতুন সমাজ ব্যবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। মানুষের স্বভাবজাত ধর্ম-সে উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছাতে চায়, ধর্ম-বর্ন-গোত্র নির্বিশেষে সকল মানুষের চাওয়া। শিশুকাল থেকেই...
     
 
এই বিভাগের সর্বশেষ আপডেট